Saturday, December 3, 2022
Homeআধ্যাত্মবাদll 🌺 অম্বুবাচী অনাবসর 🌺 ll

ll 🌺 অম্বুবাচী অনাবসর 🌺 ll

অম্বুবাচীতে এই কাহিনি না শোনালেই নয়।

একদা শিব আর পার্বতী বৃষ-আরোহনে ভ্রমণে বেরিয়েছেন। হৈমবতী প্রশ্ন করলেন, “মহেশ্বর ! তোমার গলায় কেন হাড়মালা ? ভস্ম মাখো কেন ? কেন দিগম্বর আর কেনই-বা ভিক্ষুক ?”

শিব বললেন, “প্রিয়ে ! তুমি মনের সুখে যতবার দেহত্যাগ করেছ, তা স্মরণ করে চিতাভস্ম মাখি। কঙ্কালের কণ্ঠহার পরি। উদাসীন হয়ে ভিক্ষা করি। আর শোকলাজহীন মহাযোগীর বস্ত্রে কিবা কাজ ?”

শিবের বচনে দেবীর বারংবার জন্মমৃত্যু, অর্থাৎ দেবীর অনিত্যতার প্রতি ইঙ্গিত ছিল। শক্তির প্রতি শৈবগণের এই কটাক্ষ বহুকালের। দেবী ক্রুদ্ধ হলেন। নিজের তত্ত্ব জানানোর জন্য তৎক্ষণাৎ শিবকে এক রক্তনদী দেখালেন।

ভয়াবহ রক্ত-তরঙ্গিনী দেখে শিব তো হতবাক ! এর রহস্য-ভেদ করার জন্য ধ্যানমগ্ন হলেন তিনি। কিন্তু ঈশ্বরীর এমনই মায়া, কিছুতেই শিব এই নদীর তত্ত্ব অনুধাবন করতে পারলেন না। অগত্যা তিনি দেবীরই শরণাপন্ন হলেন।

দেবী সহাস্যে বললেন, “যতবার আমি ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরকে প্রসব করেছি, ততবারের প্রসবরক্ত নদীর আকারে অদ্যাবধি বয়ে চলেছে।” শুনে চমকে উঠলেন শিব। আরম্ভ করলেন দেবীস্তব।

“হাসি কহে নারায়ণী হরি হর পদ্মযোনি

প্রসবিনু আমি যত বার ॥

সেইত রক্তের নদী বহে হর অদ্যাবধি

শুনি হর হৈলা চমকিত ।

দেবীরে করিল স্তব শ্রীকবিবল্লভ শুভ

[বিরচিল] নৌতন সঙ্গীত ॥”

শক্তিপারম্যের চরমতম এই উপাখ্যানটি লিখেছিলেন প্রাণরাম কবিবল্লভ, তাঁর ‘কালিকামঙ্গল’ কাব্যে।

নিখিলপ্রসূতির আনন্দধারা বহিছে ভুবনে।

অন্য গল্প পড়ুন – ভগবান শ্রী বিষ্ণু এক নারীর সতীত্ব নষ্ট করেছিলেন কেন জানেন ?

Anamika Modak
Author: Anamika Modak

LEAVE A REPLY



Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

%d bloggers like this: