আমি যখন হবু মা, সমস্যা থেকে সমাধান

pregnant women khobor dobor

আদি অনন্তকাল থেকেই মেয়েরা মা হচ্ছে। আমাদের ঠাকুমা দিদিমা রা যখন মা হয়েছেন তাদের গর্ভধারন থেকে প্রসব পুরোটাই বড়দের পরামর্শের ওপরই নির্ভর করে চলত।বর্তমান সময় পরিস্থিতির সম্পূর্ণ অন্যরকম।মা হওয়ার নিশ্চিত খবর এর জন্য নিজের উপসর্গ কাউকে বলার প্রয়োজন পড়েনা এখন আর। যে কোনো কোম্পানির প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট দিয়েই আমরা সুখবর সম্পর্কে নিজেরাই অবগত হতে পারি।প্রথম দিন থেকে ডাক্তারের পরামর্শ ওপরই নির্ভর করা শুরু হয়ে যায়। এইসময় অনেক রকম ফ্রেজ এর ভিতর দিয়ে যেতে হয় হবু মায়েদের ।কখনো মনের দোলাচল তো কখনো শরীরের।

মাতৃত্ব একটা জার্নি।নতুন অভিজ্ঞতার জার্নি, ভিন্নরকম অনুভূতির জার্নি, হরেকরকম স্বপ্নের জার্নি। প্রায় দশ মাসের শরীর তথা মনের একটা পরিক্রমা বলা যেতেই পারে।বেশ কিছু মাসব্যাপী নিজের শারীরিক পরিবর্তন এর সাথে মনের ওপর দিয়েও চলতে থাকে ভালো মন্দর মিশ্র প্রতিক্রিয়া।ভ্রূণ টির আস্তে আস্তে আকার ধরনের দিকে এগিয়েছে, আমরা অনুভব করতে পারি নিজের শরীর বেড়ে ওঠা দেখে, পাঁচ ছয় মাস নাগাদ পেটের মধ্যে একটু নড়াচড়া বুঝিয়ে দিয়ে যায় হবু মায়েদের তার শরীরে নতুন প্রাণের সঞ্চার।চেকআপ এর সময় সেই ছোট মানুষটির হার্ট বিট এর শব্দ টাই হবু মা দের কাছে একটা আলাদা ফিলিংস। নিজেদের ভালো রাখা টাই একমাত্র প্রায়োরিটি পুরো সময় টা জুড়ে। এই সময় তারা নিজেদের একটা নিয়মে বাঁধে। সঠিক সময়ে খাওয়া ,ঘুম, ওষুধ ,চেকআপ, টেস্ট মিলিয়ে চলে হবু মায়ের দিনযাপন।পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সুখ কে হাতের তালুতে ধরার……  যে মধ্যবর্তী সময় টা ভীষণ ভাবে পরিবর্তনশীল, সে শারীরিক হোক বা মানসিক।

আদি অনন্তকাল থেকেই মেয়েরা মা হচ্ছে। আমাদের ঠাকুমা দিদিমা রা যখন মা হয়েছেন তাদের গর্ভধারন থেকে প্রসব পুরোটাই বড়দের পরামর্শের ওপরই নির্ভর করে চলত।তখন ও হয়তো ছিল নানাবিধ সমস্যা, কিন্তু সেগুলো বিশেষ আমূল পেতো না কখনোই। খুব স্বাভাবিক ভাবেই দিন গুলো কাটিয়ে দিত তারা।মনের খারাপ ভালো নিয়ে ভাববার ফুরসৎ ছিল না, কাজের ব্যস্ততায়।সন্ধ্যা, অমাবস্যা ,পূর্ণিমা, গ্রহণ মনে রেখে নিজস্ব ছন্দে দিনলিপির মধ্যে দিয়ে এগোতে এগোতেই নির্ধারিত সময়ে হতো তাদের প্রসব।

বর্তমান সময় পরিস্থিতির সম্পূর্ণ অন্যরকম।মা হওয়ার নিশ্চিত খবর এর জন্য নিজের উপসর্গ কাউকে বলার প্রয়োজন পড়েনা এখন আর। যে কোনো কোম্পানির প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট দিয়েই আমরা সুখবর সম্পর্কে নিজেরাই অবগত হতে পারি।প্রথম দিন থেকে ডাক্তারের পরামর্শ ওপরই নির্ভর করা শুরু হয়ে যায়। এইসময় অনেক রকম ফ্রেজ এর ভিতর দিয়ে যেতে হয় হবু মায়েদের ।কখনো মনের দোলাচল তো কখনো শরীরের।

আরও পড়ুন – পিরিয়ড মিস হচ্ছে অথচ প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট এ টেস্ট করলেও ফলাফল নেগেটিভ, কারণ কি ?

গর্ভাবস্তায় সমস্যা

সমস্যা নানাবিধ হতে পারে, প্রত্যেকের শরীর আলাদা বৈশিষ্ট্য এর অধিকারী, সেই অনুযায়ী মাতৃকালীন সময় বিবিধ সমস্যা আসে । তবে মনের ওপর ও তাপ উতাপ এর বহর ও কম কিছু নয়। মুড সুইং শব্দ টার সাথে আমরা কম বেশি পরিচিত।তবে এই সময়ে এর আধিক্য খুব বেশিই হয়ে থাকে। তার কারণ অবশ্য প্রচুর হরমোনাল চেঞ্জেস। যেমন মিষ্টি খেতে ভালবাসা মেয়েটা হঠাৎ করেই টক বা ঝালের ভক্ত হয়ে ওঠে । আবার পরের দিন তার আবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হয়। কখনো সারাদিন সে তার গর্ভস্থ বাচ্চার সাথে কথা বলে কাটিয়ে দেয় তো কখনো আবার কিভাবে তার ডেলিভারি হবে,  সব ঠিক ভাবে হবে কিনা এই দুশ্চিন্তায় মনটাই খারাপ করে রাখে।নিজের পরনের জামা কাপড় গুলো একটা সময় পর ফিট হয় না গায়ে, এটা মন খারাপের ভীষণ একটা কারণ— সাময়িক হলেও।গরম লাগতে থাকে একটু অস্বাভাবিক মাত্রায়, এটা চাইলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। প্রেসার ওঠা নামা করতে থাকে। কোনো কারণে ছোট বাচ্চা টা একটা দিন একটু বেশি ঘুমোলে তার নড়াচড়া  অন্য দিনের তুলনায় কম হয়, কিন্তু এত কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়ানক দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে যায় মনের মধ্যে।কেনো তার মুভমেন্ট কম হচ্ছে আজ ?? যতই ব্যাখ্যা থাক না ….. একজন হবু মা তখনই শান্ত হয় যখন সে আবার তার বাচ্চা টিকে আগের মত নড়াচড়া করতে টের পায়। এইসময় মনে আনন্দ আর ভয়ের পাশাপাশি অবস্থান হয়। কখনোও আবার তাকে কবে দেখতে পাবো এই ভেবে খুব পেশনসলেস লাগে। কেউ কেউ অযথা কোনো খাবারের জিনিস থেকে একটা আঁশটে গন্ধ পেয়ে থাকে।কারুর কারুর মাছ মাংসের প্রতি একটা অনীহা চলে আসে।পর্যাপ্ত জলের যোগান  খুব দরকার দিনে অন্তত ৪/৫ লিটার। যা খুবই আবশ্যক, কিছু কিছু হবু মায়েরা জল একদম খেতে পারে না, বমির কারণে, বাচ্চার জন্য জলের ভারসাম্য শরীরে খুব দরকারী একটা জিনিস। সঠিক ওজন বৃদ্ধি টা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রক্রিয়া যাতে বোঝা যায় পর্যাপ্ত ভাবে বাচ্চার গ্রোথ হচ্ছে কিনা?? আরেকটা বিশাল সমস্যা মেয়েদের এরকম সময় দেখা যায় সেটা হলো অনিদ্রা। অনেক সময় ঘুম ঠিক না হওয়ার কারণে ওজন বাড়তে সমস্যা হয়।সময় যত এগিয়ে আসে শরীর তত ভারী আর প্রস্রাব ততই ঘন ঘন হতে থাকে। যার ফলে অনেক সময় প্রস্রাব বেরিয়ে যায় ওয়াশ রুমে পৌঁছনোর আগেই।এটা খুব সাধারণ একটা ঘটনা।কোনো কারণে ঠান্ডা লাগলে বা পেট খারাপ করলে সাধারণ ওষুধ খেতে পারে না কারণ বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কায়।কারণ এই সময় ডাক্তার এর নির্বাচন করা ওষুধ একমাত্র খাওয়া উচিত।ডাক্তারের কাছে বা হসপিটাল এ পৌঁছনোর আগে পযন্ত বেশ কিছুটা অসুস্থতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় এমন অবস্থায়।তাছাড়া পা ফোলা, চুলকানি, বমি ভাব, অরুচি হতে থাকে। অনেকের সুগার আসে প্রেগনেন্সির সময় আবার আফটার ডেলিভারি চলেও যায়। অনেক সময় আমরা এমন কিছু দেখে ফেলি বা শুনে ফেলি, বা কখনো প্রত্যক্ষ দর্শি হয়ে উঠি অপ্রীতিকর ঘটনার যা আমাদের শরীর মন দুটোই প্রচন্ড অবশ করে তোলে। ভালো না লাগা এসে তখন এমন ভাবে ঘিরে ধরে যা কাটিয়ে উঠতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়।

সমাধান

যা ভালো লাগে তাই করা, বই পড়া, সিনেমা দেখা, গল্প করা (পজেটিভ), মন যা চায় তাই খাওয়া ( এলার্জি হয় এমন কিছু থেকে দূরে), ঘুরতে যাওয়া(সাবধানতা অবলম্বন করে), নিজেকে কাজে ব্যাস্ত রাখা— দরকার হলে অফিস যাওয়া, যে যা কর্ম জীবনের সাথে যুক্ত তাতে তত দিন সক্রিয় ভাবে কাজ করা যত দিন সে শারিরীক ভাবে ক্ষমতা না হারাচ্ছে। রান্না করা, সাজগোজ করা, বাচ্চাদের সাথে সময় কাটানো, পার্কে যাওয়া, গান শোনা বা গাওয়া, সুইমিং পুলে গিয়ে সাঁতার কাটতে দেখা(মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়), মেডিটেশন করা, কম চাপ যুক্ত ব্যায়াম করা বা নিজের প্রিয়জনের সাথে ভালো ভালো প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা, হবু মায়েরা পেমপার হতে খুব ভালোবাসে, এমন কোনো মানুষের সাথে বেশি সময় কাটানো যে তাকে সব চেয়ে বেশি পেম্পার করে, অর্থাৎ নিজের সন্তানের জন্য গর্ব অবস্থায় একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া যাতে তার মস্তিষ্ক গঠন খুব ভালো ভাবে হতে পারে। হবু মা এর আনন্দে থাকাটাই প্রধান কাজ এমন সময়ে।দশটা মাস প্রচুর স্বপ্ন দেখতে থাকা যা সবটাই তার ক্রাশ (সন্তান)কে ঘিরে।