Friday, August 19, 2022
Homeআধ্যাত্মবাদকৈলাশ পৌঁছানো কেনো অসাধ্য ? - কলমে সুনীত অধিকারী

কৈলাশ পৌঁছানো কেনো অসাধ্য ? – কলমে সুনীত অধিকারী

ॐ ত্রৈয়ম্বকম্ য়জামহে
সূগন্ধিম্ পূষ্টিবর্ধনম্ ।
উর্বারূকমিব বন্ধনাম্
মৃত্যুরমোক্ষিয় মামৃতাত ||

এই হলো মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র যার অর্থ হলো

ত্রৈয়ম্বকম্ : তিন নেত্র বা চোখ আছে যার
য়াজামহে : যা আমরা পুজো করি
সূগন্ধিম্ : সুগন্ধ যুক্ত
পূষ্টি : যা শক্তি যোগায়
বর্ধনাম : যা বৃদ্ধি করে বা শক্তি যোগায়
উর্বরুকমিব : শশার মতো
বন্ধনাম : বন্ধন থেকে মুক্ত করতে পারেন যিনি
মৃত্যুর : মৃত্যু থেকে
মোক্ষীয় : মোক্ষশলাভ
মামৃতাত : মক্ষলাভ থেকে মুক্ত করে |

এই মন্ত্র হলো মহাদেব অর্থাৎ শিবের মন্ত্র এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিশালী মন্ত্র | এর ভাভার্থ হল যার তিনটি নেত্র রয়েছে যিনি জগতের লালন পালন করেন তার কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন আমাদের মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত করে দেন | ঠিক যেমন একটি শসা পরিপক্ক হয়ে তার শাখা-প্রশাখা বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায় | ঠিক তেমনি আমরা যখন জ্ঞানের আলোকে পরিপক্ক হয়ে উঠব তখন যেন আমরা মুক্তিলাভ থেকে বঞ্চিত না হয় অর্থাৎ মোক্ষলাভ করতে পারি |

শিব হল হিন্দুধর্মের মহা দেবতা এনার স্মরণে এলে সব দুঃখ কষ্ট সমাধান হয় | কথা প্রচলিত আছে যে বহু যুগ ধরে প্রায় মহাভারতের আগে থেকে এনার বাসস্থান নাকি কৈলাশ অর্থাৎ কৈলাস পর্বতে; কৈলাশ পর্বতের (Kailash Mountain) অবস্থান হিমালয় পর্বতমালার ত্রাণশিমালা তে চীনের তিব্বতে, অনেকে প্রশ্ন করে কেন চিনে ভারতে কেন নয়?? এর উত্তর হলো আমরা ম্যাপ দেখলে দেখতে পাবো এটি চায়নায় কিন্তু প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে এটা বরাবর ভারতে অবস্থিত |

শিব ও পার্বতীর প্রেম ও বিয়ের গল্প – লেখিকা অনামিকা

6,638 m (21,778 ft ) উচ্চতার এই পর্বত কৈলাশ মহাদেবের বাসস্থান কিনা তা নিয়ে বহু বছর ধরে অনেকে অনেক রকম প্রশ্ন তুলেছে সবচেয়ে মূল্যবান প্রশ্ন হল অভিলাষের চূড়ায় পৌঁছানো কেন অসাধ্য? কারণ আজ অব্দি কোন ব্যক্তি সফল হয়নি সেখানে পৌঁছাতে | মাউন্ট এভারেস্ট জয় করতে অনেকেই পেরেছেন কিন্তু এত বছর ধরে চেষ্টা করেও কেন কৈলাস জয় করা যাচ্ছে না? কি এমন অলৌকিক শক্তি কৈলাস জয় করতে বাধা দিচ্ছে ? কথা প্রচলিত আছে অনেক বছর আগে প্রায় এগারোশো শতাব্দীতে একজন বুদ্ধ যোগী মিলারেপা হরিদাস জয় করতে পেরেছিলেন কিন্তু এর কোনো বিশেষ প্রমাণ নেই অর্থাৎ আমরা মেনে নিতে পারি কৈলাসের চূড়া এখনো জয় করা যায়নি |

জানা গেছে কোন এক বিশেষ অলৌকিক শক্তি কৈলাশ পর্বত কে জয় করতে বাধা দেয় যতবার কেউ কৈলাসে পা রেখেছে তখনই অনুভব করা গেছে যেন কোন অজানা অলৌকিক শক্তির ফলে আবহাওয়ায় তীব্র পরিবর্তন, দিক ভুলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে কেউ এগোতে পারছে না | স্যাটেলাইট ভিশন দিয়ে দেখা গেছে এই পর্বতের আকার চারদিক থেকে সমান অর্থাৎ কোন পিরামিডের আকারে এবং উপর থেকে কখনও কখনও মহাদেবের কিছু চিহ্ন দেখা গেছে ; কিছু লোক বলেছে এক ত্রিশূলধারী যোগীকে কখনো কখনো উত্তরের দিকে দেখা যায় |

Geographical Structure of Kailash Mountain

Dr. Ernst Muldashev একজন রাশিয়ান অপথলমলোজিস্ট তার থিওরিতে বলেছেন কৈলাশ কোন ন্যাচারাল জিওগ্রাফিক্যাল স্ট্রাকচার নয় এটি একটি পিরামিড যা আকার নিয়েছে কোন সুপার ন্যাচারাল শক্তি থেকে | এর ভেতরে কোনো ছোট অথবা মাঝারি মাপের শহরের অবস্থান হওয়া অসম্ভব কিছু না |
এছাড়া এর সমতলভূমি অর্থাৎ Base এর কাছে দুটি হ্রদ আছে মানব সরোবর এবং রাক্ষসতল | মানব সরোবর হ্রদ টি সূর্যের আকারে এবং রাক্ষসতল হ্রদ টি অর্ধচন্দ্র আকারে | মানব সরোবর হ্রদ হল সবচেয়ে স্বচ্ছ ও পবিত্র জল গোটা বিশ্বের মধ্যে; এবং রাক্ষসতল সবচেয়ে নোনা জল | মানব সরোবর এর জল খুবই শান্ত এবং পবিত্র এবং রাক্ষসতলের জল রুক্ষ এবং ঝড় প্রকপ দুটোই একই আবহাওয়া তে অবস্থিত |

আরো একটি ব্যাপার হলো গৌরীকুণ্ড অথবা পার্বতী সরোবর এর অবস্থান যেখান থেকে গণেশের উৎপত্তি হয়েছিল | এছাড়া চারটি মহানদী ইন্দাস, ব্রহ্মপুত্র, সুতলেজ এবং কর্ণালী (গঙ্গার অবস্থান) চারটি এই পর্বত থেকে বয়ে চলেছে দীর্ঘ বহুযুগ ধরে | এর আগেই বলেছি চারটি দিক নির্ণয় করছে এই পর্বত যা পিরামিডের আকারে ; পুরান মতে এটি হলো পৃথিবীর মধ্যস্থল যা ত্রয়ী মাসিক অঞ্চলে ভাগ করছে গোটা বিশ্বকে পুরান এই বলে যে সোনা, চুনি, নীলা (নীলকান্তমণি), স্ফটিক এই চারদিকে চারটি জিনিসের অবস্থান আছে যা কোনকিছু নির্ণয় করছে |
বৈজ্ঞানিকরা অনেক কিছুতে সফলতা পেয়েছেন এবং বড় বড় মহাকাশ অভিযান ও করেছেন তাতে সফলতাও পেয়েছেন কিন্তু তবুও এত বছর হয়ে গেল আজকের দিনে 2021 সালেও কেন তারা এই পরবর্তী জয় করতে ব্যর্থ?

আমরা এই লেখাতে অনেক রকমের প্রমাণ পাচ্ছি যার সাথে পুরানে প্রমাণ এবং মিল দুই আছে যা থেকে বোঝা যায় কোন এক মহা অলৌকিক শক্তির অবস্থান এই পর্বতে আছে কিন্তু তারা কি সেটা কেউ বলতে পারছে না কারন তা এখনো চোখে দেখা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি | অতএব মাইথোলজিক্যাল মতে আমরা আজো মেনে নিতে পারি যে এই জায়গাতে বিজ্ঞান হার মানছে এবং বিজ্ঞানের উপরেও শক্তি কিছু আজও রয়েছে যা অনন্ত, আদি, মহাশক্তিশালী, মহাত্মা, অবিশ্লেষশোনীয়; এই চর্চার কোন শেষ হয় না আমরা হিন্দু মহাদেব মহাকাল মহেশ্বর কে স্মরণে রেখে তার অলৌকিকত্ব কে বিশ্বাস করে এই আলোচনায় আবার ফিরে আসবো…………….

Anol A Modak
Author: Anol A Modak

Film Maker, Writer, Astrologer, Vastu Consultant, Hypnotherapist, Entreprenuer

Most Popular

Recent Comments

%d bloggers like this: